দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে আসার কথা থাকা অন্য রাজ্যের ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং স্থানীয় ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
দিল্লির জন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ হওয়ার কথা থাকলেও এর অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনো তাজা থাকায় এবারের বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, বিধিনিষেধ সত্ত্বেও দলের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা থেকে সরে আসবেন না।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একদিকে আপনারা বলছেন, বিক্ষোভের কারণে মানুষের অসুবিধা হবে। অন্যদিকে মেট্রো, রেল পরিষেবা বন্ধ করে সড়ক অবরুদ্ধ করছেন। এতে কি মানুষের অসুবিধা হবে না?’
দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনা
পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনার দুটি প্রধান লক্ষ্য। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের পদক্ষেপ যেন নতুন করে সমালোচনার জন্ম না দেয়, তা নিশ্চিত করা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লি জেলার ভেতরে প্রবেশ ঠেকানো এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করলে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ এলাকায় সাড়ে ৬ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
নিরাপত্তা নজরদারি বাড়াতে নয়াদিল্লি জেলার সংবেদনশীল স্থানগুলোতে শব্দ ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
জন্তর মন্তরে সাত স্তরের ব্যারিকেড
বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শেষ দিকের কয়েকটি ব্যারিকেড ঝালাই করে জোড়া দেওয়া হয়েছে, যাতে সহজে সেগুলো ভেঙে ফেলা না যায়।
সংবেদনশীল স্থানগুলোতে মাইকে আগাম ধারণ করা ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। এসব ঘোষণায় জানানো হচ্ছে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে লোকজনকে সেখানে জড়ো না হওয়া, স্লোগান না দেওয়া, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও বার্তা প্রচারের অনুরোধ করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন আবাসিক হোটেলেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। হোটেল ব্যবস্থাপকদের অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়াদাতা ও সম্পত্তির মালিকদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের কাছে ঘর ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কাউকে পাওয়া গেলে পুলিশকে জানাতেও বলা হয়েছে।
বিক্ষোভের প্রতিটি মুহূর্ত ধারণের উদ্যোগ
বিক্ষোভ সামলানোর সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি না হয়, সে জন্য ঘটনাপ্রবাহের ভিডিও ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এক নারী বিক্ষোভকারীর ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে আসে। এসব অভিযোগ পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এবার ঘটনাপ্রবাহের বিভিন্ন দিক নথিবদ্ধ করতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দায়িত্বে থাকা অন্য সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওচিত্র ধারণকারীকে বিক্ষোভ এবং পুলিশের পদক্ষেপ সরাসরি নথিবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের আশা, এসব দৃশ্য ধারণের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করা, বিভ্রান্তিকর দাবির জবাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠিও প্রকাশ করেছে। এতে পুলিশ সদস্যদেরও পরিবার রয়েছে এবং তারাও মানুষ, এ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সব পক্ষকে সংযম ও মানবিক আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পোশাক পরার কারণে কারও মানবিক পরিচয় হারিয়ে যায় না।
/অ